বাচ্চার বাবা মায়েরা, বাচ্চাকে সব সময় এক ডাক্তার
দেখাবেন না । আরসালানকে ছোট থেকেই এক ডাক্তার দেখিয়ে এসেছি। জন্মের তিনদিন থেকেই সে ডাক্তরের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ খাইয়েছি। এটাই বড় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তার। কারণ সে ডাক্তার আরসালানকে কখনো পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা করেনি। আমরা তার কাছে বাচ্চার যে সমস্যার কথা বলেছি তিনি সে বিষয়ের ঔষধ লিখে দিয়েছেন। এর বাহিরে আর কোনো কিছু তিনি আমাদের বলেননি।
কিছুদিন আগে তার হাত পায়ে পানির ফুসকুড়ি হয়। যা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করে। আমরাও গতানুগতিক সেই ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি এন্টিবায়োটিক কিছু ঔষধ দেন। সেগুলো খাওয়ানোর পরে কিছুটা কমে যায় । কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও তা বেড়ে যায় ৷
যার জন্য আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে টিকেট কেটে ডাক্তার
দেখাই। সেখানে দুজন ডাক্তার ছিলেন একজন পুরুষ একজন মহিলা দুইজনই তাকে দেখে বলতেছে আপনারা
বাচ্চাকে কি এর আগে কখনো ডাক্তার দেখাননি?
বাচ্চার তো অনেক সমস্যা, তার রক্তশূন্যতা এবং ভিটামিন ডি এর অভাব। যার কারণে মাথার সামনের দিকে হালকা ফুলে যাচ্ছে ।
আপনারা দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান ।
আমরা হাসপাতাল থেকে এসে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান স্যারকে দেখাই। তিনি
আরসালানকে দেখে বললেন আপনারা বাচ্চাকে একেবারে শেষ স্টেপে নিয়ে এসেছেন।তারপর প্রায় ১২ হাজার টাকার মতো বিভিন্ন পরীক্ষা দিলেন। এর মাঝে রক্ত, ইকো,মাথার এক্সরে, থ্যালাসেমিয়া সহ আরো নানান পরীক্ষা ছিলো। সব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি লিখলেন। কোনো ঔষধ না লিখে প্রথমেই 200ml করে দুই ব্যাগ ব্লাড ম্যানেজ করতে বললেন। কারণ তার হিমোগ্লোবিন 5.10
আমরা সেদিন রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হই। পরের দিন অনেক খোঁজার পর B+ ব্লাড দেন MD Atikul Islam ভাই এর পরের দিন ব্লাড দেন Md Kawsar Habib ভাই আপনাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব না।
আল্লাহ আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিক।
অনলাইন এবং অফলাইনে আরসালানের অসুস্থতার খবর শুনে যারা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন দূর থেকে দোয়া করেছেন, হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমরা এখন বাসায় আছি। আরসালান আগের চেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ। সবাই
আরসালানের জন্য দোয়া করবেন।